SATYANUSARAN
![]() |
| SATYANUSARAN |
ভারতের অবনতি(degeneration) তখন থেকেই আরম্ভ হয়েছে যখন থেকে ভারতবাসীর কাছে অমূর্ত্ত ভগবান অসীম হয়ে উঠেছে। ঋষি বাদ দিয়ে ঋষিবাদের উপাসনা আরম্ভ হয়েছে।
ভারত,যদি ভবিষ্যত কল্যাণকে আবাহন করতে চাও তবে সম্প্রদায়গত বিরোধ ভুলে জগতের পূর্ব পূর্ব গুরুদের প্রতি শ্রদ্ধা সম্পন্ন হও আর তোমার মূর্ত্ত ও জীবন্ত গুরু বা ভগবানে আসক্ত(attached) হও , আর তাদেরই স্বীকার কর যারা তাঁকে ভালোবাসে।কারণ, পূর্ববর্তী কে অধিকার করিয়াই পরবর্তীর আবির্ভাব।
সত্যানুসরন
সর্বপ্রথম আমাদের দুর্বলতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে। সাহসী হতে হবে , বীর হতে হবে ,পাপের জ্বলন্ত প্রতিমূর্তি ওই দুর্বলতা তাড়াও যত শীঘ্র পার,ওই রক্ত শোষণকারি অবসাদ উৎপাদক ভ্যাম্পায়ারকে।( ভ্যাম্পায়ার একজাতীয় বাদুড়;ইহারা নির্বিবাদে ঘুমন্ত জীবজন্তুর রক্ত শোষণ করিয়া থাকে)। স্মরণ করো তুমি সাহসী, স্মরণ করো তুমি শক্তির তনয়,স্মরণ করো তুমি পরম পিতার সন্তান । আগে সাহসী হও , অকপট হও,তবে জানা যাবে ,তোমার ধর্মরাজ্য ঢোকবার অধিকার জন্মেছে।
এতটুকু দুর্বলতা থাকলেও তুমি ঠিক ঠিক অকপট হতে পারবেনা; আর ,যতদিন তোমার মন- মুখ এক না হচ্ছে ততদিন তোমার মলিনতার গায়ে হাতই পড়বে না ।
মন - মুখে এক হলে আর ভিতরে গলদ জমতে পারে না - গুপ্ত আবর্জনা ভাষায় ভেসে উঠে পড়ে। পাপ গিয়ে তার ভিতর বাসা বাঁধতে পারে না।
হটে যাওয়াটা বরং দুর্বলতা নয়কো,কিন্তু চেষ্টা না করাই দুর্বলতা। তুমি কোন কিছু করতে প্রাণপণে চেষ্টা করা সত্ত্বেও যদি বিফলমনোরথ হও,ক্ষতি নাই । তুমি ছেড়ো না , ওই অম্লান চেষ্টাই তোমাকে মুক্তির দিকে নিয়ে যাবে।
দুর্বল মন চিরকাল সন্ধিগ্ধ - তারা কখনোই নির্ভর করতে পারে না। বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে - তাই প্রায়ই রুগ্ন ,কুটিল,ইন্দ্রিয় পরবশ হয় । তাদের নিকট সারাটা জীবন জ্বালাময় । শেষে অশান্তিতে সুখ-দুঃখ ডুবে যায়, - কি সুখ , কি দুঃখ বলতে পারে না ; বললে হয়তো বলে ' বেশ ' তাও অশান্তি; অবসাদে জীবন ক্ষয় হয়ে যায়।
দুর্বল হৃদয়ে প্রেম ভক্তির স্থান নেই । পরের দুর্দশা দেখে, পরের ব্যথা দেখে ,পরের মৃত্যু দেখে নিজের দুর্দশা, ব্যথা বা মৃত্যুর আশংকা করে ভেঙে পড়া, এলিয়ে পড়া বা কেঁদে আকুল হওয়া - ওসব দুর্বলতা। যারা শক্তিমান ,তারা যাই করুক ,তাদের নজর নিরাকরণের দিকে - যাতে ও - সব অবস্থায় আর না কেউ বিধ্বস্ত হয়, প্রেমের সহিত তারই উপায় চিন্তা করা - বুদ্ধদেবের যা হয়েছিল। ওই হচ্ছে সবল হৃদয়ের দৃষ্টান্ত।
তুমি বলনা তুমি ভীরু, বলনা তুমি কাপুরুষ, বলনা তুমি দুরাশয়। পিতার দিকে নজর কর, আবেগভরে বল - ওগো, আমি তোমার সন্তান; আমার আর জড়তা নেই ,আর দুর্বলতা নেই, আমি আর কাপুরুষ নই ,আমি আর তোমাকে ভুলে নরকের দিকে ছুটে যাব না, আর তোমার জ্যোতির দিকে পিছন ফিরে ' অন্ধকার ', ' অন্ধকার ' বলে চিৎকার করবো না।
* * * *
অনুতাপ কর,কিন্তু স্মরণ রেখো যেন পুনরায় অনুতপ্ত হতে না হয়।
যখনই তোমার কুকর্মের জন্য তুমি অনুতপ্ত হবে,তখনই পরম পিতা তোমাকে ক্ষমা করবেন, আর ক্ষমা হলেই বুঝতে পারবে, তোমার হৃদয়ে পবিত্র সান্তনা আসছে, আর তাহলেই তুমি বিনীত,শান্ত ও আনন্দিত হবে।
যে অনুতপ্ত হয়েও পুনরায় সেই প্রকার দুষ্কর্মে রত হয়,বুঝতে হবে সে সত্বরই অত্যন্ত দুর্গতিতে পতিত হবে।
শুধু মুখে - মুখে অনুতাপ অনুতাপই নয়, ও আরও অন্তরে অনুতাপ আসার অন্তরায়। প্রকৃত অনুতাপ এলে তার সমস্ত লক্ষণই অল্প প্রকাশ পায়।
* * * *
জগতে মানুষ যত - কিছু দুঃখ পায় তার অধিকাংশই কামিনী - কাঞ্চনে আসক্তি থেকে আসে, ও দুটো থেকে যত দূরে সরে থাকা যায় ততই মঙ্গল।
ভগবান শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণদেব সবাইকে বিশেষ করে বলেছেন, কামিনী - কাঞ্চন থেকে তফাৎ - তফাৎ - খুব তফাৎ থাক।
কামিনী থেকে কাম বাদ দিলেই ইনি মা হয়ে পড়েন। বিষ অমৃত হয়ে গেল। আর মা মা - ই, কামিনী নয়কো।
' মা ' - র শেষে ' গী ' দিয়ে ভাবলেই সর্বনাশ। সাবধান । মাকে মাগী ভেবে মর না।
প্রত্যেকের মা - ই জগজ্জননী। প্রত্যেক মেয়েই নিজের মায়ের বিভিন্ন রূপ, এমনতর ভাবতে হয়।
মাতৃভাব হৃদয়ে প্রতিষ্ঠিত না হলে স্ত্রীলোক ছুঁতে নেই - যত দূরে থাকা যায় ততই ভাল; এমন - কি মুখ দর্শন না করা আরও ভাল।
আমার কাম ক্রোধাদি গেল না, গেল না - বলে চিৎকার পাড়লে কখনই তারা যায় না। এমন কর্ম, এমন চিন্তা ,অভ্যাস করে নিতে হয় যাতে কামক্রোধাদির গন্ধও নেই - মন যাতে ও সব ভুলে যায়।
মনে কামক্রোধাদির ভাব না এলে কী করে তারা প্রকাশ পাবে? উপায় - উচ্চতর উদার ভাবে নিমজ্জিত থাকা।
সৃষ্টিতত্ত্ব, গণিত বিদ্যা , রসায়ন শাস্ত্র ইত্যাদির আলোচনায় কাম - রিপুর দমন হয় ।
কামিনী - কাঞ্চন - সম্বন্ধীয় যে - কোন রকম আলোচনাই ওতে আসক্তি এনে দিতে পারে। ও - সব আলোচনা থেকে যত দূরে থাকা যায় ততই ভাল ।
* * * *
সংকোচই দুঃখ, আর প্রসারণই সুখ। যাতে হৃদয়ে দুর্বলতা আসে, ভয় আসে - তাতেই আনন্দের খাকতি - আর তাই দুঃখ।
চাওয়াটা না পাওয়াই দুঃখ। কিছু চেও না। সব অবস্থায় রাজী থাক, দুঃখ তোমার কি করবে?
দুঃখ কারো প্রকৃতিগত নয়কো, তাকে ইচ্ছে করলেই তাড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে।
পরম পিতার কাছে প্রার্থনা কর - 'তোমার ইচ্ছাই মঙ্গল ;আমি জানিনা, কি সে আমার মঙ্গল হবে। আমার ভিতরে তোমার ইচ্ছাই পূর্ণ হোক'। আর, তার জন্যে তুমি রাজি থাক - আনন্দে থাকবে, দুঃখ তোমাকে স্পর্শ করতে না ।
কারো দুঃখের কারণ হয়ো না, কেহ তোমার দুঃখের কারন হবে না ।
দুঃখও একরকম ভাব, সুখ ও একরকম ভাব। অভাবের বা চাওয়ার ভাবটাই দুঃখ । তুমি জগতের হাজার করেও দুঃখ নষ্ট করতে পারবে না - যতক্ষণ তুমি হৃদয় থেকে ঐ অভাবের ভাবটা কেড়ে না নিচ্ছ । আর, ধর্মই তা করতে পারে।
* * * *
যদি সাধনায় উন্নতি লাভ করতে চাও, তবে কপটতা ত্যাগ কর ।
কপট ব্যক্তি অন্যের নিকট সুখ্যাতির আশায় নিজেকে নিজেই প্রবঞ্চনা করে, অল্প বিশ্বাসের দরুন অন্যের প্রকৃত দান হতেও প্ৰবঞ্চিত হয়।
তুমি লাখ গল্প কর, কিন্তু প্রকৃত উন্নতি না হলে তুমি প্রকৃত আনন্দ কখনই লাভ করতে পারবে না ।
কপটাশয়ের মুখের কথার সঙ্গে অন্তরের ভাব বিকশিত হয় না, তাই আনন্দের কথাতেও মুখে নীরসতার চিহ্ন দৃষ্ট হয়; কারণ , মুখ খুললে কি হয় ,হৃদয়ে ভাবের স্ফূর্তি হয়না ।
অমৃতময় বারি কপটের নিকট তিক্ত লবনময়, তীরে যাইয়াও তার তৃষ্ণা নিবারিত হয় না ।
সরল দৃষ্টি ঊর্দ্ধদৃষ্টি সম্পন্ন চাতকের মত । কপটি নিম্নদৃষ্টিসম্পন্ন শকুনের মত । ছোট হও,কিন্তু লক্ষ্য উচ্চ হোক , বড় এবং উচ্চ হয়ে নিম্নদৃষ্টি সম্পন্ন শকুনের মত হওয়ায় লাভ কি?
কপট হয়ো না, নিজে ঠক না, আর অপরকে ঠকিও না।
* * * *
For reading more buy the book ... it's not possible to use Satsang Property (Books) here. It will violate copyright act.
You can buy this book from Satsang Deoghar or its branches (ashram, Mandir,Thakur Bari) in different places.
And to know what is Satsang visit - www.satsang.org.in

Comments
Post a Comment